নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ | 14 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য বিদ্যমান সম্মিলিত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ বাধ্যবাধকতায় বিশেষ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিশেষ করে যেসব কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে পুনর্গঠিত হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ বিধান আগের তুলনায় শিথিলভাবে প্রয়োগ করা হবে।
বুধবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ থাকা কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হবে। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের সামনে নতুন করে মূলধন সংগ্রহের পথ উন্মুক্ত হলো বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর দেখা যায়, অনেক উদ্যোক্তা উচ্চ দামে নিজেদের শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়ান। এতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা কমে যায়। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং উদ্যোক্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ২০১১ সালে বিএসইসি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে।
যদিও নীতিটি বাজারে কিছু ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল, তবে সময়ের সঙ্গে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও সামনে আসে। বিশেষ করে দুর্বল ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলো এ নিয়মের কারণে বেশি চাপে পড়ে। অনেক প্রতিষ্ঠানের পর্ষদ অনিয়ম বা দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে পুনর্গঠন করা হলেও নতুন পরিচালকদের স্বল্প সময়ে বাজার থেকে ৩০ শতাংশ শেয়ার সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে আইনি জটিলতার কারণে এসব কোম্পানি রাইট শেয়ার, বোনাস শেয়ার কিংবা অন্যান্য উপায়ে মূলধন বাড়াতে পারেনি।
মূলধনের ঘাটতিতে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ায় সম্ভাবনাময় অনেক কোম্পানিও ধীরে ধীরে দুর্বল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ সময় লভ্যাংশবঞ্চিত থাকতে হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিএসইসির এই নতুন সিদ্ধান্ত অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করবে। প্রথমত, পুনর্গঠিত পর্ষদ থাকা কোম্পানিগুলো এখন রাইট শেয়ার বা বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সহজে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে। এর ফলে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
দ্বিতীয়ত, বড় শিল্পগোষ্ঠী বা নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য দুর্বল কোম্পানির দায়িত্ব গ্রহণ আরও সহজ হবে। এতদিন ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী আগ্রহ হারাতেন। নতুন সিদ্ধান্তে সেই প্রতিবন্ধকতা অনেকটাই কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তৃতীয়ত, দীর্ঘদিন ধরে লোকসানি বা বন্ধ কোম্পানিতে বিনিয়োগ আটকে থাকা সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোম্পানিগুলো যদি নতুন মূলধন সংগ্রহ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে শেয়ারের দর ও লভ্যাংশ—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত কঠোর বিধিনিষেধ অনেক সময় ব্যবসা সম্প্রসারণ ও পুনরুদ্ধারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তারা বিএসইসির এ উদ্যোগকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। তবে মূলধন সংগ্রহের এই সুযোগ যেন পুনর্গঠিত পর্ষদ অপব্যবহার করতে না পারে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য কার্যকর নজরদারির ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
Posted ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.